আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ - Ayatul Kursi Bangla Meaning

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আশা করি সবাই ভালো আছেন। ইনশাআল্লাহ আজ আমরা আয়াতুল কুরসি ayatul kursi bangla নিয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

এই সূরাটিতে মহান আল্লাহ তাআলার মহাবিশ্বের ওপর জোরালো ক্ষমতা এর কথা বর্ণনা করা হয়েছে। আবু উমামা থেকে বর্ণিত, বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজ শেষে আয়াতুল কুরসি পড়ে, তাঁর জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোনো কিছু বাধা হবে না।

এছাড়াও আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ , আয়াতুল কুরসি আরবি ও বাংলা উচ্চারণ এবং এর ইতিহাস আলোচনা করবো ।

আয়াতুল কুরসি তেলাওয়াত এর ভিডিওঃ


আয়াতুল কুরসি কি?

কুরসী অর্থ হচ্ছে আল্লাহ তাআ’লার পা রাখার জায়গা। আয়াতুল কুরসি (আরবি: آية الكرسي‎‎) সুরা আল বাকারার ২৫৫ তম আয়াত । এটি কোরআনের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ আয়াত এবং ইসলামি বিশ্বে ব্যাপকভাবে পঠিত ও মুখস্থ করা হয়।

আয়াতুল কুরসীতে তাওহীদ, ইখলাস, আল্লাহর ক্ষমতা ও সিফাত সম্পর্কে বলা হয়েছে এবং এতে সমগ্র মহাবিশ্বের উপর আল্লাহর পূর্ণ ক্ষমতা ঘোষণা করা হয়েছে তাই এই আয়াত কে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত বলে দাবি করা হয়।

আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ - ayatul kursi bangla uccharon

আয়াতুল কুরসীতে ১০টি বাক্য রয়েছে। যেগুলোর  বাংলা উচ্চারণ নিচে দেওয়া হলঃ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বইয়্যুমু লা তা খুজুহু সিনাত্যু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিছছামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্। মান যাল্লাযী ইয়াশ ফায়ু ইন দাহু ইল্লা বি ইজনিহি ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খল ফাহুম ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম্ মিন ইল্ মিহি ইল্লা বিমা শাআ ওয়াসিয়া কুরসিইউ হুস ছামা ওয়াতি ওয়াল আরদ্ ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিয়্যূল আজীম।

আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ছবি hd ,আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ছবি

আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ছবি hd ,আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ছবি
আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ

আয়াতুল কুরসি আরবি

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ [٢:٢٥٥]

আয়াতুল কুরসি বাংলা অর্থ - ayatul kursi bangla anubad

আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব (অমর), চিরস্থায়ী/সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। এবং তাঁর পদাসন/পা রাখার স্থান সমস্ত আকাশ ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান। [২:২৫৫]

আয়াতুল কুরসির ফজিলত

আয়াতুল কুরসির ফজিলত


আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে অনেক উপকারিতা বা ফজিলত রয়েছে ayatul kursi আয়াতুল কুরসি আল-কুরআনের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ আয়াত। এই আয়াত পাঠ করার ফজিলত সম্পর্কে কিছু হদিস নিচে দেওয়া হলোঃ

আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন ‘প্রতি ফরজ নামাজের পর যে ব্যক্তি আয়াতুল কুরসি পড়বে তার জান্নাতে যাওয়ার পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।’ (আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, নাসায়ি, হাদিস : ১০০)।

উবাই বিন কাব থেকে বর্ণিত, মুহাম্মদ (সা.) উবাই বিন কাবকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তোমার কাছে কুরআন মজীদের কোন আয়াতটি সর্বমহান? তিনি বলেছিলেন, (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুআল হাইয়্যুল কাইয়্যুম) তারপর রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজ হাত দ্বারা তার বক্ষে (হালকা) আঘাত করে বলেন: আবুল মুনযির! তোমার জ্ঞান আনন্দদায়ক হোক।(সুনানে আবু দাউদ ১৪৬০)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান থেকে রক্ষা পাবে এবং যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে সে সকাল পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে।

আয়াতুল কুরসি পড়ে বাড়ি থেকে বের হলে ৭০০০০ ফেরেস্তা চর্তুদিক থেকে তাকে রক্ষা করে।

মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, হুমায়দী (রহঃ) আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বলেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা আসমান ও যমীনে আয়তুল কুরসী অপেক্ষা মহান (আজম) আর কিছু সৃষ্টি (খ্বলাক) করেননি। এর তাফসীরে সুফইয়ান (রহঃ) বলেনঃ আয়াতুল কুরসী হল আল্লাহর কালাম। আর আসমান ও যমীনে আল্লাহর সকল সৃষ্টি থেকে তাঁর কালাম তো মহান হবেই। (সুনান তিরমিজী, ২৮৮৪)

আয়াতুল কুরসির গাণিতিক অলৌকিক ব্যাখ্যা
আয়াতুল কুরসিতে মোট ৯টি বাক্য আছে, যার প্রথম বাক্যের সঙ্গে নবম বাক্য, দ্বিতীয়র সঙ্গে অষ্টম বাক্য, তৃতীয়র সঙ্গে সপ্তম বাক্য ও চতুর্থ বাক্যের সঙ্গে ষষ্ঠ বাক্যের মিল রয়েছে। অবশিষ্ট পঞ্চম বাক্যটি মাঝে থেকে পূর্ব ও পরের বাক্যগুলোর অর্থ ও অবস্থানকে অর্থবহ করে তোলে।

আয়াতুল কুরসির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

এই আয়াতের প্রথমেই বলা হয়েছে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ (উপাস্য, ইবাদাতের যোগ্য) নেই। এরপর আল্লাহর গুণাবলি বর্ণনা হয়েছে। اَلْـحَيُّ শব্দের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, তিনি সর্বদা জীবিত। قَيُّوْمُ শব্দের অর্থ দুটি অর্থ, একটি হচ্ছে চিরস্থায়ী, আরেকটি হচ্ছে, সবকিছুর ধারক, অর্থাৎ তিনি নিজে বিদ্যমান থেকে অন্যকেও বিদ্যমান রাখেন এবং নিয়ন্ত্রণ করেন। তারপর আয়াতুল কুরসিতে বলা হয়েছে, তাকে তন্দ্রা (নিদ্রার প্রাথমিক প্রভাব) ও নিদ্রা স্পর্শ করতে পারে না। অর্থাৎ মহাবিশ্বের নিয়ন্ত্রণ তাকে ক্লান্ত করে না। পরের অংশ থেকে বুঝা যায় যে, আল্লাহ আকাশ এবং জমিনের সবকিছুর মালিক এবং তিনি যা কিছু করেন, তাতে কারো আপত্তি করার অধিকার নেই। তার অনুমতি ছাড়া তার কাছে সুপারিশ করার ক্ষমতাও কারো নেই। বলা হয়েছে, আল্লাহ অগ্র-পশ্চাৎ যাবতীয় অবস্থা ও ঘটনা সম্পর্কে অবগত। অগ্র-পশ্চাৎ বলতে এ অর্থ হতে পারে যে, তাদের জন্মের পূর্বের ও জন্মের পরের যাবতীয় অবস্থা ও ঘটনাবলি আল্লাহ জানেন। আবার এ অর্থও হতে পারে যে, অগ্র বলতে মানুষের কাছে প্রকাশ্য, আর পশ্চাত বলতে বোঝানো হয়েছে যা অপ্রকাশ্য বা গোপন। আল্লাহ যাকে যে পরিমাণ জ্ঞান দান করেন সে শুধু ততটুকুই পায়। পরের অংশে বলা হয়েছে তার আরশ ও কুরসি এত বড় যে, তা সমগ্র আকাশ ও জমিনকে পরিবেষ্টিত করে রেখেছে। এ দুটি বৃহৎ সৃষ্টি এবং আসমান ও জমিনের রক্ষণাবেক্ষণ করা তার জন্য সহজ। শেষ অংশে আল্লাহকে “সুউচ্চ সুমহান” বলা হয়েছে।

পরিশেষে

এই ছিল আজকে ayatul kursi bangla আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ , আয়াতুল কুরসি আরবি ও বাংলা উচ্চারণ সম্পর্কে বিস্তারিত।

আশা করি আপনার ভালো লেগেছে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url